স্কিন-কেয়ার এর ৬টি বড় ভুল!

রূপচর্চার ব্যাপারে এখন আমরা কমবেশি সবাই সচেতন। মুখ পরিষ্কারের জন্য ক্লিনজার থেকে শুরু করে নাইটক্রিম, সানস্ক্রিন ক্রিম হরহামেশাই ব্যবহার করছি আমরা। তবে আমরা কি জানি আমাদের স্কিনকেয়ারের এই বিশেষ ধাপগুলো আমরা ঠিকভাবে মেনে চলছি কি না ? স্কিন-কেয়ার এর সচরাচর ভুলগুলো নিয়ে আমাদের আজকের ব্লগ, কারণ সঠিকভাবে ত্বকের পরিচর্যা না করলে কিন্তু উপকারের পরিবর্তে হবে পারে ত্বকের আরও বাড়তি ক্ষতি!

  • অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন

ত্বকের মৃতকোষ পরিষ্কার করতে এক্সফোলিয়েশনের বিকল্প নেই। তবে আমরা অনেকেই বেশি সফট ও ক্লিন স্কিনের জন্য প্রতিদিন স্ক্রাব ব্যবহার করি যা ত্বকের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনে। আমাদের ত্বকে ন্যাচারাল ওয়েলস থাকে যা হেলদি স্কিনের জন্য জরুরি।একনে ও পিম্পল যুক্ত স্কিনে স্ক্রাব ব্যবহার করলে কিন্তু হিতে বিপরীত ঘটতে পারে।এছাড়া প্রতিদিন স্ক্রাব করলে ত্বকের ন্যাচারাল প্রটেকশান নষ্ট হয়ে যায় এবং ত্বকে র‍্যাশ, ওপেন পোরস এর মতো আরো নতুন সমস্যা শুরু হয়। তাই সপ্তাহে দুই দিনের বেশি ত্বক এক্সফোলিয়েট করা একদমই উচিত নয়।

  • পানির ভুল তাপমাত্রা

প্রতিদিন ফেসওয়াশ ব্যবহার করার পর বা মেকআপ তুলতে অথবা কোনো কারণ ছাড়াই মুখ কিন্তু বেশ কয়েকবার ধুতে হয় আমাদের। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা খেয়াল রাখি না মুখ ধোয়ার সময় পানির তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না। খুব বেশি গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া যেমন ঠিক না, তেমনি বেশি ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়াও হতে পারে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ত্বক পরিষ্কার করার সময় সবসময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের সঠিক আদ্রতা বজায় থাকে এবং কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

  • সঠিকভাবে মেকআপ রিমুভ না করা

পার্টি মেকআপ নিয়ে আপনি দাওয়াতে গেলেন, সবার চোখের মধ্যমনি যেন আপনি-ই! এতো এতো প্রশংসা নিয়ে বাসায় এসে ক্লান্ত, আলসেমির জন্য মেকআপ না তুলেই ঘুম। এমন কাহিনী আমাদের কার সাথে না ঘটেছে? তবে জেনে রাখা প্রয়োজন, সঠিকভাবে মেকআপ রিমুভ না করা ত্বকের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। মেকআপ ইনগ্রিডিয়েন্টস গুলো ত্বকে বেশিক্ষন রাখলে ত্বকে ময়লা জমে একনে , পিম্পলস ও র‍্যাশ হতে পারে। মেকআপ রিমুভার দিয়ে খুব ভালোমতো তাই প্রতিবার মেকআপ শেষে ফেস ক্লিন করে ফেলতে হবে। অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল ও মেকআপ তুলতে দারুনভাবে কাজ করে।

  • অয়েলি স্কিনে ময়েশ্চারাইজিং এর অবহেলা

অয়েলি স্কিন অধিকারীদের একটি কমন ভুল ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা। অনেকেই ভাবেন, অয়েলি স্কিন ময়েশ্চারাইজ করার আর কি-ই বা আছে, চেহারা তেলতেলে হয়ে যাবে। তবে প্রতিবার ত্বক ক্লিনজিং এর পর আপনার স্কিন টাইপ যা-ই হোক না কেন, ময়েশ্চারাইজিং মাস্ট! সঠিক ময়েশ্চারাইজিং এর অভাবে ত্বকে ইনার-ড্রাইনেস (Inner-dryness) তৈরী হতে থাকে যা ত্বকের বাহির থেকে বোঝা যায়না। এর ফলে, দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে যায়, ত্বক হয়ে পড়ে নিষ্প্রাণ। অয়েলি স্কিনের জন্য সঠিক ময়েশচারাইজার নির্বাচন করা জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে, ময়েশচারাইজারটি যেন অবশ্যই অয়েল-ফ্রি হয়।

  • ভুল বয়সে ভুল স্কিন-কেয়ার

বয়স বুঝে স্কিন-কেয়ার করাটা খুবই জরুরি। অনেক সময় টিনএজাররা স্কিন-কেয়ার এতো বেশি কড়া কেমিক্যালস ব্যবহার করে ফেলে যা তাদের ত্বকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টিনএজারদের উচিত একদম অর্র্গানিক ও মাইল্ড ইনগ্রিয়েন্টস সমৃদ্ধ প্রোডাক্টস ব্যবহার করা। ঘরে বসেই ত্বকের সঠিক পরিচর্যাটুকু তারা সেরে ফেলতে পারে।অন্যদিকে, ২৫ বছরের পর থেকেই কিন্তু আমাদের এমন প্রোডাক্টস ব্যবহার করা উচিত যা এন্টি-এজিং ইনগ্রিডিয়েন্টস সমৃদ্ধ। স্পিরুলিনা, ভিটামিন সি, গ্রিন টি প্রভৃতি এন্টি-এজিং এর জন্য দারুন কাজ করে।

  • সানস্ক্রিন ব্যবহারে অবহেলা

শীত, বর্ষা, কিংবা গ্রীষ্ম, সানস্ক্রিন ব্যবহারে অবহেলা করা যাবেনা কোনো কালেই! বাইরে তাকিয়ে দেখলেন রোদের প্রকোপ কম, তাই সানস্ক্রিন ছাড়াই বের হয়ে পড়লেন; স্কিনের জন্য এটি অনেক ক্ষতিকর। সূর্যের তাপ ও রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবে ত্বকে রোদে পোড়া দাগের সৃষ্টি হওয়া, ত্বকে অকাল বার্ধক্য ছাড়াও স্কিন ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। এর হাত থেকে রেহাই পেতে হলে চাই এসপিএফ সমৃদ্ধ ময়েশচারাইজার, ক্রিম বা সানস্ক্রিন লোশন। তীব্র রোদে এসপিএফ ৫০ ব্যবহার করা উচিত। অন্যদিকে, রোদের প্রবলতা কম থাকলে এসপিএফপি ১৫ বা ২০ পর্যন্ত ব্যবহাhর করাই শ্রেয়।

একটু সাবধান থেকে ত্বক পরিচর্যার বিষয়গুলো মেনে  চলতে হয় তা ঠিক, কিন্তু সামান্য এই দিকগুলোর প্রতি খেয়াল রাখলেই আপনার  ত্বক হাসবে সারা দিন জুড়ে!

চুলের যত্নের ক্ষেত্রেও নিজের অজান্তে কোনো ভুল করছেন কি না তা মিলিয়ে দেখতে পড়ুন এই ব্লগটি – https://blog.stylinecollection.com/2019/01/14/7-hair-care-mistakes/

Leave a Reply