যে ৭ টি ভুলের কারণে আপনার অজান্তেই চুলের ক্ষতি হচ্ছে!

সুন্দর, শাইনি ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল কে না চায়? চুলের যত্ন নিতে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার মাস্ক, হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে করতে দিনের কত্তগুলো সময়ই চলে যায় চুলের পেছনে । কিন্তু পরিচর্যার একদম প্রাথমিক কিছু ধাপেই যদি থেকে যায় গলদ, তা হলে কি চলে? তাই হেয়ার কেয়ারের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো নিয়ে আমাদের আজকের ব্লগ। চুলের সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন নিতে  খুব সাধারণ এই বিষয়গুলো জেনে নেওয়া জরুরি।


সঠিক প্রসাধনী বেছে নিয়ে সঠিক উপায়ে যত্নের মাধ্যমে করুন চুলের যত্ন
  • অতিরিক্ত চুল ধোওয়া

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য  নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার রাখতে হবে, যা আমরা সবাই জানি। শ্যাম্পু আমাদের স্ক্যাল্প ও চুলের ময়লা ও তেলতেলে ভাব দূর করে, ড্যানড্রাফের হাত থেকে বাঁচায়। কিন্তু প্রয়োজনের বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার করলে কিন্তু হিতে বিপরীত ঘটতে পারে! এছাড়া, পানির বেশি ব্যবহারও চুলের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিন কড়া কেমিক্যালের শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলে ওভার ড্রাইনেসে ন্যাচারাল ওয়েলস কমে যায়। ফলে চুল শুষ্ক ও নির্জীব লাগে। বিউটি এক্সপার্টদের মতে, ২-১ দিন পর পর শ্যাম্পু করা যথেষ্ট।তবে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় যারা রোজ বাইরে যান তাদের চুল ধুলাবালিতে ময়লা হয় বেশি। তাদের তাই প্রতিদিনই শ্যাম্পু করা উচিত। তবে এক্ষেত্রে মাইল্ড ইনগ্রিডিয়েন্টস সমৃদ্ধ হালাল শ্যাম্পু ব্যবহারের কথা খেয়াল রাখতে হবে।

  • কন্ডিশনার ব্যবহারে অবহেলা

চুলের সঠিক যত্নের জন্য কন্ডিশনিং এর মতো গুরুত্বপূর্র্ণ ধাপটি অবহেলা করার মতো বোকামি আর নেই। শ্যাম্পু আমাদের চুলের ন্যাচারাল অয়েল শুষে ফেলে। কন্ডিশনিং এর ফলে চুলের সঠিক আদ্রতা বজায়  থাকে এবং ড্রাইনেস কমে এসে চুল হয় কোমল। চুল বেশি শুষ্ক হলে প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনিং করা উচিত। মিশ্র ধরনের চুল হলে এক দিন পরপর কন্ডিশনিং করলেও চলবে।

  • চুল বাঁধায় ভুল

একটি খুব প্রচলিত ভুল ধারণা হচ্ছে চুল টাইট করে বাঁধলে চুলের বৃদ্ধি বেশি হয়। একারণে অনেকেই দেখা যায় ঘুমের আগে চুল একদম শক্ত করে টেনে বেণী করে ঘুমান। এর ফলে চুল উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেই সাথে রক্ত-সঞ্চালনেও সমস্যা হয়। তাছাড়া, ভেজা চুল বেঁধে রাখার মতও ভুল আমরা অহরহ করছি। ভেজা চুল না শুকানো পর্যন্ত কখনোই বাঁধা উচিত না, এতে চুল ভঙ্গুর হয়ে যায়।

  • নিয়মিত চুলের আগা না ছাটা

যেকোনো ধরণের চুলে স্প্লিট এন্ডস বা আগা ফেটে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। তবে এর সমাধান হিসাবে কোনো হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টই কিন্তু কাজে দিবে না। বড়জোর স্প্লিট এন্ড্স কম হতে পারে, কিন্তু যতটুকু আগা ফেটে গিয়েছে তা কিন্তু ঠিক হয়ে যাবেনা। স্প্লিট এন্ডসের জন্য চুল খুবই পাতলা দেখায়, চুলে জট লেগে যায় বেশি বেশি। তাই নিয়মিত চুলের আগা ছাটা খুবই জরুরী। ২-৩ মাস পরপর চুলের আগা ছাঁটা চুলের স্বাভাবিক গ্রোথ বজায় রাখে এবং চুলকে রাখে হেলদি।  

  • অতিরিক্ত হিট ও কেমিক্যাল প্রয়োগ

চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার, হেয়ার স্টাইলিংয়ের জন্য আয়রন কিংবা কার্লার আমরা হরহামেশাই ব্যবহার করি। তবে নিয়মিত চুলে এসব যন্ত্র ও হিট  ব্যবহার করা কি ঠিক? মোটেই নয়! অনেকেই আছেন যারা ভেজা চুলে স্ট্রেইটনার ব্যবহার করেন যা চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। খুব প্রয়োজন না হলে এগুলো ব্যবহার না করাই ভালো। তবে খুব বেশি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই হিট প্রটেকটর ব্যবহার করা উচিত।

  • সঠিক পদ্ধতিতে তেল ম্যাসাজ না করা

চুল হচ্ছে  মৃতকোষ। চুলের গোড়ায় আমরা যতই তেল ম্যাসাজ করিনা কেন, সম্পূর্র্ণ চুলের প্রতিও আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত। চুলের গোছা ধরে অনেকেই একবারে তেল লাগিয়ে ফেলেন সবগুলো চুলে তেল পৌছালো কি না তা না দেখেই। কিন্তু এতে চুল সঠিক কোনো পুষ্টি পায়না। চুলে তেল ম্যাসাজ করার সময় চুল ভাগ ভাগ করে নিতে হবে। কিছুটা সময় হাতে নিয়ে আলতো হাতে তেল ম্যাসাজ করতে হবে যেন প্রতিটি চুল আলাদা আলাদা ভাবে তেলের পুষ্টিগুণ শুষে নিতে পারে।

চুল যার নেই শুধু সেই জানে চুল না থাকার কষ্ট। তাই মাথার চুল মাথায় থাকতেই সচেতন হওয়া উচিত যেন নিজের কোনো ভুলের কারণে শখের চুলগুলো নষ্ট হয়ে না যায়।

ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রেও নিজের অজান্তে কোনো ভুল করছেন কি না তা মিলিয়ে দেখতে পড়ুন এই ব্লগটি – https://blog.stylinecollection.com/2019/01/16/6-mistakes-skin-care/

Leave a Reply