জেনে নিন আপনার ত্বকের ধরন

বান্ধবীর পরামর্শে কেনা ফেসওয়াশটি অনেকদিন ধরেই ব্যবহার করছেন, কিন্তু ফলাফল আসছে না কোনো। এরকম ঘটনা কম-বেশি আমাদের সবার সাথেই ঘটেছে। তার অন্যতম কারন, নিজের ত্বকের ধরন না জানা।

সুস্থ্য ত্বকের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়, এ কথা তো সবারই জানা। কিন্তু ত্বকের ধরন না বুঝে পরিচর্যা করতে গেলেই কিন্তু বিপদ! এতে ত্বক সুন্দর হওয়ার বদলে ত্বকে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। অনেক সময় খুব ভালো রিভিউ দেখে অথবা বান্ধবীর পরামর্শে কেনা কসমেটিক্সটি আপনার কোনো কাজে আসতে না পারে যদি আপনাদের দুইজনের ত্বকের ধরন হয় ভিন্ন। এতে দোষ বান্ধবীর নয়, বরং আপনারই। তাই অবশ্যই জেনে নিন আপনার ত্বকের ধরন। এতে পরবর্তিতে নিজের জন্য সঠিক বিউটি প্রোডাক্টটি বেছে নিতে পারবেন কোনো সংকোচ ছাড়াই।

ত্বক ধরণ অনেক রকমেরই দেখা যায়। তবে আমাদের আবহাওয়া ও পরিবেশে সাধারণত পাঁচ ধরনের ত্বক বেশি দেখা যায়। যেমন- তৈলাক্ত ত্বক, শুষ্ক ত্বক, মিশ্র ত্বক, স্বাভাবিক ত্বক এবং সংবেদনশীল ত্বক। আপনার ত্বক এর মধ্যে কোন ধরনের তা জানতে পারেন খুব সহজ একটি পরীক্ষার মাধ্যমে। এর জন্য সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একটি পাতলা টিস্যু বা ব্লটিং পেপার আপনার মুখের উপর চেপে ধরুন এবং খেয়াল করুন।

তৈলাক্ত ত্বক – টিস্যুতে আপনার মুখের পুরো তৈলাক্ত ভাব উঠে আসলে বুঝতে হবে আপনার ত্বক তৈলাক্ত। তৈলাক্ত ত্বকের কপাল, নাকের ভাঁজ, চিবুক এবং গালের অধিকাংশ অংশেই তেলতেলে ভাব থাকে। তাই এই ধরনের ত্বক সনাক্ত করা যায় সহজেই। তৈলাক্ত ত্বকের প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য অবশ্যই বেছে নিবেন কোনো অয়েল ফ্রি ফোমিং ফেসওয়াশ এবং ময়েশ্চারাইজার। চন্দন এবং মুলতানি মাটি অয়েলি স্কিনের জন্য কাজ করে খুবই ভালো।

শুষ্ক ত্বক – শুষ্ক ত্বক হচ্ছে তৈলাক্ত ত্বকের সম্পূর্ণ বিপরীত। শুষ্ক ত্বকে টিস্যু চেপে ধরলে কোনো ধরনেরই তেলতেলে ভাব লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু এ ধরণের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক থাকার কারণে প্রায়শই চামড়া ফেটে সাদা সাদা হয়ে যায়। তাই শুষ্ক ত্বকে সবসময় ব্যবহার করতে হবে কোনো রিচ ময়েশ্চারাইজার। শুষ্ক ত্বকে যেকোনো ফেসপ্যাক ব্যবহার করার সময় সাথে মধু কিংবা দুধ ব্যবহার করতে পারেন।

মিশ্র ত্বক – টিস্যু পেপারে যদি আপনার শুধু নাক ও চিবুক / থুতনি (T-Zone) থেকে তেল উঠে আসে তাহলে বুঝতে হবে আপনার ত্বকের ধরন মিশ্র বা কম্বিনেশান। যেহেতু মিশ্র ত্বকে ড্রাই এবং অয়েলি দুই ধরনের ভাবই থাকে, তাই মিশ্র ত্বকের যত্ন নিতে হয় বেশ বুঝে শুনে। শসার রস, ভিটামিন ‘ই’ মিশ্র ত্বকের জন্য খুবই উপকারি।

স্বাভাবিক ত্বক – স্বাভাবিক ত্বকে টিস্যু চেপে ধরলে খুব অল্প তেলতেলে ভাব লক্ষ্য করা যাবে। এ ধরনের ত্বক না অতিরিক্ত শুষ্ক হয় আর না অতিরিক্ত তৈলাক্ত। ত্বক প্রাকৃতিক ভাবেই যথেষ্ট ময়েশ্চরাইজড থাকে ফলে ফাটে ও না। নরমাল স্কিনের আরও একটি ভালো দিক হচ্ছে যে এ ধরনের স্কিনে যেকোনো প্রোডাক্ট সহজেই স্যুট করে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম দেখা দেয়। তাই কসমেটিক্স বেছে নিতেও কোনো সমস্যায় পড়তে হয়না।

সংবেদনশীল ত্বক– সেনসেটিভ স্কিন বা সংবেদনশীল ত্বকে টিস্যু পেপার দিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই কারণ এ ধরনের ত্বক দেখলেই বোঝা যায়। সেনসেটিভ স্কিন হয়ে থাকে খুব বেশি স্পর্শকাতর। তাই ত্বক থাকে খুব পাতলা এবং খসখসে। এ ধরনের ত্বকের জন্য তাই সব ঋতুতেই চাই অতিরিক্ত যত্ন। সংবেদনশীল ত্বকে কেমিক্যাল প্রসাধনী ব্যবহারের চেয়ে প্রাকৃতিক ও অরগ্যানিক উপায়ে পরিচর্যা করা উচিত যেন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

এখন থেকে তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে মানানসই কসমেটিক্সটি বেছে নিতে পারবেন স্কিন টাইপ যাচাই করে। তবে শুধু এ টুকুই কিন্তু যথেষ্ট নয়। যেকোনো নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে কিন্তু প্যাচ টেস্ট করে নেওয়াও অত্যন্ত জরুরী। প্যাচ টেস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ে ফেলুন আমাদের ব্লগটি – https://blog.stylinecollection.com/cosmetics/patch-test/

Leave a Reply