কিভাবে সংরক্ষণ করবেন অরগ্যানিক কসমেটিক্স

খুব শখ করে কেনা অরগ্যানিক ফেস প্যাকটিতে এক সপ্তাহের মধ্যেই দেখলেন ভিতরে পোকা! নিশ্চয়ই ভাবছেন ফেসপ্যাকের মধ্যেই কোনো ঝামেলা ছিল। তবে ফেসপ্যাকে ঝামেলা থাকার চেয়ে এর সংরক্ষণ পদ্ধতিতেই সবচেয়ে বড় গরমিল করে থাকি আমরা নিজেদের অজান্তে। যেহেতু অরগ্যানিক কসমেটিক্স এ কোনো ধরণের প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়না, তাই এর সংরক্ষণও করতে হয় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করে। আমাদের এই ব্লগের মাধ্যমে জেনে নিন অরগ্যানিক কসমেটিক্স সংরক্ষণের সব খুঁটিনাটি।

সঠিক ভাবে সংরক্ষণ না করলে ভালো মানের অরগ্যানিক কসমেটিক্স ও যেকোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে
  • সরাসরি সূর্যালোক থেকে দূরে

সূর্যরশ্মি কসমেটিক্সের জন্য বড় শত্রূ । অরগ্যানিক কসমেটিক্স কখনোই এমন জায়গায় রাখা যাবে না যেখানে সূর্যালোক সরাসরি এসে পড়ে। তাই বারান্দায় বা জানালার পাশের কোনো টেবিলে যদি আপনি রেখে থাকেন আপনার প্রিয় কসমেটিক্সগুলো তবে তা এখনই সরিয়ে ফেলুন। কারণ সূর্যের তাপে কসমেটিক্সের অধিকাংশ ইনগ্রেডিয়েন্টস নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে প্রোডাক্টটির কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। এছাড়া, অধিক তাপে কসমেটিক্সের শেলফ লাইফও নষ্ট হয়ে যায়। অরগ্যানিক কসমেটিক্স রাখতে হবে রুম টেম্পারেচারে। আলো থেকে দূরে কোনো ড্রয়ার বা কেবিনেট হতে পারে সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গা। কোনো কারণে হ্যান্ডব্যাগে কসমেটিক্স নিতে হলে অবশ্যই তা আগে জিপলক ব্যাগে ভরে নেওয়া উচিত। এতে কসমেটিক্স গুলো পাবে এক্সট্রা প্রটেকশান ও থাকবে সুরক্ষিত।

  • ভেজা জায়গায় কখনোই না

শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা শাওয়ার জেলতো আমরা বাথরুমে রেখেই অভ্যস্ত। তাই বলে অরগ্যানিক কসমেটিকসগুলো কিন্তু কখনোই বাথরুমে বা ভেজা কোনো জায়গায় রাখতে যাবেন না। আমাদের বাথরুমে থাকে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া। সেই সাথে প্রতিবার শাওয়ারের পর যে স্টিম তৈরী হয় তা-ও অরগ্যানিক কসমেটিক্সের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলে। তাই এ ধরণের কসমেটিক্স স্টোর করতে হবে একদম ড্রাই প্লেসে। তাছাড়া এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে যেন কসমেটিকসের বোতল বা জারটি প্রতিবার ব্যবহারের পর একদম এয়ার টাইট ভাবে লাগানো হয়।

  • রেফ্রিজারেশনের গুরুত্ব

কসমেটিক্স রেফ্রিজারেশনের প্রতি যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিভিন্ন টোনার, গোলাপজল, স্ক্রাব কিংবা ওয়াটার-বেজড প্রোডাক্টগুলো ফ্রিজে সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তাই বলে সব প্রোডাক্টই কিন্তু আবার ফ্রিজে রাখা যাবেনা। যেমন, পাউডার-বেজড কসমেটিক্স, ক্লে মাস্ক বা অয়েল-বেজড সিরাম ফ্রিজে না রাখাই শ্রেয়। ফ্রিজে অন্য খাওয়া-দাওয়ার  থেকে যেন কসমেটিক্সগুলো দূরে রাখা হয়, এই ব্যাপারেও আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।

   তাই, শুধু নামি দামি কসমেটিক্স ভ্যানিটিতে বাড়ালেই চলবেনা, এর সম্পূর্ণ ফলাফল পেতে ঠিকমতো সংরক্ষণের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রোডাক্টের ইনগ্রিডিয়েন্টসের উপর ভিত্তি করে অনেক সময় বোতলের উপরেই এর ব্যবহার বিধি ও সংরক্ষণ পদ্ধতি লেখা থাকে। কোনো কসমেটিক্স ব্যবহারের আগে অবশ্যই উচিত সেসব ভালোমতো পড়ে নেওয়া এবং মেনে চলা। তাহলে আপনার কসমেটিক্সগুলো থাকবে যত্নে, সেই সাথে আপনার ত্বক ও চুলও !

Leave a Reply