কেন দরকার প্যাচ টেস্ট?

তিন দিন আগে অনলাইনে খুব শখ করে নতুন একটি ফেসপ্যাক অর্ডার করেছিল তাসমিয়া। আজ ডেলিভারি পেয়ে তার অপেক্ষার পালার সমাপ্তি ঘটলো ঠিক, কিন্তু ঘটে গেলো হিতে বিপরীত ঘটনা। ফেসপ্যাকটির উপাদান সম্পর্কে ভালো মত না জেনেই ব্যবহার করায় সাথে সাথে তার মুখ লাল হয়ে নতুন র‍্যাশ উঠছে।

তাসমিয়ার মত আমাদের মধ্যেও অনেকেই আছেন যারা অনেক ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করছেন ঠিকই কিন্তু তার উপাদান কী সেই দিকে খেয়াল করেন না। ফলে কোন কোন উপাদানে আপনার অ্যালার্জির ঝুঁকি আছে তা না জেনেই স্কিনের জন্য আরও মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনেন। অনেক সময় অনেক ভালো রিভিউ দেখে কেনা প্রোডাক্টও আপনাকে স্যুট না করতে পারে। সেজন্য, সবসময় নতুন স্কিন কেয়ার সামগ্রী ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে।

প্যাচ টেস্ট কী?

নতুন কোনো কসমেটিক্স ব্যবহারের আগে তা আপনার ত্বকের জন্য কাজ করবে কিনা তা যাচাই করার একটি পদ্ধতি হচ্ছে প্যাচ টেস্ট। যেকোনো স্কিন টাইপের জন্যই প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেনসেটিভ স্কিনের জন্য প্যাচ টেস্টিং মাস্ট! তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধাপটি আমরা উপেক্ষা করে থাকি যার ফলে ব্রণ বা অ্যালার্জি জনিত সমস্যা বেড়ে যায়।

কীভাবে করবেন প্যাচ টেস্ট?

প্যাচ টেস্ট করা জটিল কোনো পদ্ধতি নয়। খুব সহজে নিজে নিজেই করতে পারবেন প্যাচ টেস্ট, তবে এর জন্য দরকার যথেষ্ট ধৈর্য; নতুন কোনো প্রোডাক্ট কিনে সাথে সাথেই ব্যবহার শুরু করে দিলে চলবেনা। বিভিন্ন উপায়ে প্যাচ টেস্ট করা যায়।

  • কোনো প্রোডাক্টে আপনার অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশান হবে নাকি তা জানতে সামান্য পরিমানে প্রোডাক্টটি নিয়ে আপনার কানের পিছনের অংশে ব্যবহার করে টেস্ট করে নিবেন। এটি করলে আপনি একটি ধারণা পাবেন যে এই পণ্যে বা উপাদানে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে কিনা।
  • কোনো প্রোডাক্টে আপনার ইরিটেশান বা চুলকানির মত সমস্যা হবে কিনা তা জানতে প্রোডাক্টটি আপনার বডির সবচেয়ে সেনসেটিভ অংশে অ্যাপ্লাই করে টেস্ট করতে হবে। সেজন্য আপনি কনুই, ঘাড় কিংবা নাকের কোণায় অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। অংশটি লাল হয়ে গেলে, বা ইরিটেশান শুরু হলে বুঝতে হবে প্রোডাক্টটি আপনার স্কিনের জন্য মানানসই নয়, তাই আর ব্যবহার করা যাবেনা।
  • স্কিন ব্রেকআউট এবং পোরস ক্লগিং পরীক্ষার জন্য প্রোডাক্টটি আপনার থুতনি, দুই আইব্রুর মাঝে অথবা নাকের চারদিকে সামান্য পরিমাণে নিয়ে টেস্ট করতে পারেন।

প্যাচ টেস্টের জন্য কতক্ষণ সময় প্রয়োজন?

একেক জনের জন্য প্যাচ টেস্টের সময় ভিন্ন হয় কারণ আমাদের ত্বকের ধরন সবার একই নয়। তবে কোনো প্রোডাক্ট আপনাকে আসলেই স্যুট করবে কিনা তা জানতে নূন্যতম ২৪ ঘন্টা আপনাকে অপেক্ষা করতেই হবে। অনেক সময় খুব দ্রুত প্রোডাক্টটি রিঅ্যাক্ট করা শুরু করে। ত্বক লাল হয়ে যায়, বাম্পস, র‍্যাশ, অ্যালার্জি কিংবা গোঁটা ওঠা শুরু করে। সেইক্ষেত্রে, তাৎক্ষনিকভাবে প্রোডাক্টটি ব্যবহার করা বন্ধ করে ফেলতে হবে। আর ৪৮ ঘন্টার মধ্যেও কোনো নেগেটিভ রিঅ্যাকশান না পেলে তা নির্দিধায় ব্যবহার করা শুরু করে ফেলতে পারেন।

বুঝতেই পারছেন, স্কিনের জন্য অহেতুক ঝুঁকি এড়াতে প্যাচ টেস্টিং কতটা গুরুত্বপুর্ন। আপনিও যদি এই ধাপটি এতদিন এড়িয়ে চলে থাকেন তাহলে এবার থেকে আর ভুল করবেন না যেন! স্কিনের জন্য মানানসই কসমেটিক্সটি খুঁজে পেতে এতটুকু কাজ তো করাই যায়, তাই নয় কি?

Leave a Reply