প্রতিদিনকার স্কিন-কেয়ার রুটিন

সপ্তাহের প্রতিটি দিনই ব্যস্ততার। এই ব্যস্ততার মধ্যেই প্রতিদিনের স্কিন কেয়ার রুটিন অবশ্যই মেনে চলা দরকার। ক্লিঞ্জিং, টোনিং এবং ময়েশ্চরাইজিং একটি সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন এর বেসিক তিনটি ধাপ। এগুলোর সাথে স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েটিং এবং এক্সট্রা নরিশমেন্টের প্রয়োজনও আছে। এর যেকোনো একটিও নিয়ম মাফিক পরিচর্যায় বাদ দিলে ত্বক হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা, সেই সাথে দেখা যায় ত্বকের নানা ধরণের সমস্যা। রূপসচেতন সবার তাই প্রতিদিন কিছু নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই  হাতে রাখা উচিত প্রোপার স্কিন কেয়ারের জন্য।

ক্লিনজিং

সুস্থ ও গ্লোয়িং স্কিনের জন্য স্কিন কেয়ারের সবচেয়ে প্রথম এবং ইম্পরট্যান্ট ধাপ  ক্লিনজিং। সারাদিনের সব ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ত্বকে জমে ত্বককে করে ফেলে প্রাণহীন। আর অপরিষ্কার ত্বকেই জট বাধে পিম্পল, একনে ও বাম্পস এর  মতো হাজারো সমস্যা। তাই আপনার স্কিন টাইপ যা-ই হোক না কেন, ত্বক পরিষ্কার রাখার জন্য এই ধাপটি আপনি কখনোই বাদ দিতে পারবেন না। ক্লিনজিং এর জন্য আপনার ত্বকের ধরন বুঝে অয়েল ক্লিনজার কিংবা ফোম ক্লিনজার যেকোনোটি ব্যবহার করতে পারেন।

এক্সফোলিয়েশন

ক্লিনজিংয়ের পর দরকার হয় এক্সফোলিয়েটিং বা স্ক্রাবিং। প্রতিদিন ক্লিনজিংয়ের পরেও আমাদের ত্বক কিন্তু একেবারে ‘ফ্ললেস’ হয়ে যায় না। দিনে দিনে  ত্বকে মৃতকোষ জমতেই থাকে। স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েটর আমাদের ত্বকের সেই মৃতকোষ পরিষ্কার করে ত্বকে ইনস্ট্যান্ট ব্রাইটনেস এনে দেয়। বিভিন্ন সুগার স্ক্রাব গ্লোয়িং ত্বকের জন্য কাজ করে দারুণভাবে। তবে প্রতিদিন স্ক্রাব করা কিন্তু ত্বকের জন্য একদম হিতে বিপরিত হবে। সপ্তাহে এক বা দুদিন  এক্সফোলিয়েট বা স্ক্রাবিং-ই যথেষ্ট। আর অন্যান্য দিন স্কিন কেয়ারের এই ধাপটি বাদ দিয়ে সরাসরি পরবর্তি ধাপে চলে গেলেও কোনো সমস্যা হবে না।

টোনিং

প্রতিবার ক্লিনজিংয়ের পর আমাদের ত্বক কিছুটা আদ্রতা হারিয়ে ফেলে। এর জন্য দরকার টোনিং। টোনার স্কিনের ক্লিনজিং প্রসেসকে সম্পূর্র্ণ করে, ত্বকে জমে থাকা বাড়তি ময়লা দূর করে। শুধু তাই-ই নয়, টোনার ত্বকের ওপেন পোরস গুলো বন্ধ করে যা স্কিনের জন্য খুবই জরুরি। এছাড়া স্কিনের পিএইচ ব্যাল্যান্সকে ঠিক রেখে স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখার কাজেও টোনার ব্যবহৃত হয়। হাইড্রেটেড স্কি্নে পরবর্তিতে এসেন্স, সিরাম কিংবা ময়েশ্চারাইজার শোষণ হয় আরও কর্যকরি ভাবে। এত্ত গুনাগুন আমরা এই একটি ধাপেই পেয়ে যাই, কিন্তু তাও অনেকে আলসেমির কারণে এই ধাপটি বাদ দিয়ে দেই যা একদমই উচিত নয়।

নারিশমেন্ট

স্কিনের পর্যাপ্ত নারিশমেন্টের জন্য টোনিং এর পর এসেন্স কিংবা ফেস সেরাম ব্যবহার করা উচিত। যাদের ত্বকে পিগমেন্টেশান ও অসমান স্কিন টোনের সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই স্কিন কেয়ার রুটিনে ভিটামিন ‘সি’ সেরাম রাখা উচিত। এসেন্স ও সেরাম আমাদের ত্বক শুধু যে নরিশ করে তাই-ই নয়, ত্বকের আদ্রতাও ধরে রাখে এবং এজিং একদম স্লো করে ফেলে। নিয়মিত ফেস সিরাম ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বেড়ে যায় বহুগুণে।

ময়েশ্চারাইজিং

স্কিন কেয়ার রুটিন সম্পূর্র্ণ করতে ময়েশ্চরাইজিং। অনেকেই ভেবে থাকেন এই ধাপটি শুধুমাত্র শুষ্ক ত্বকের জন্য। এমনটা কিন্তু মোটেই নয়। শুষ্ক ত্বকের সাথে সাথে তৈলাক্ত ও সেনসিটিভ ত্বকের ধরণ বুঝে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।  ময়েশ্চারাইজার স্কিনকে নারিশ করে এবং হাইড্রেটেড রাখে। ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে এবং সেইসাথে এন্টি এজিংএর কাজ করে ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আমরা দিনের বেলায় যে ময়েশ্চরাইজারটি ব্যবহার করছি তা যেনো অবশ্যই SPF সমৃদ্ধ হয়।

অনেকেই স্কিন কেয়ারের স্টেপগুলো ধাপে ধাপে সঠিক ভাবে মেনে চলেন না দেখে অনেক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করেও কোনো ফলাফল পান না। তাই, স্বাস্থ্যজ্জ্বোল ত্বকের জন্য স্কিন কেয়া্রের রুটিন মেনে চলতে আর ভুল করবেন না যেন!

Leave a Reply