অরগ্যানিক ও হালাল কসমেটিকস কেন ব্যবহার করবেন?

আমাদের স্বাস্থ্য কর্মক্ষম এবং সুস্থ রাখতে খাঁটি ও পুষ্টিকর খাদ্যের সন্ধান আমরা কে না করি? কিন্তু  চুল ও ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় কি আমরা প্রসাধনীগুলোর উপাদান সম্পর্কে সচেতন? ফরমালিনযুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল যেমন আমাদের শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়ঙ্কর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় , কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী তেমনি ত্বক ও চুলের ক্ষতি করছে আমাদের অজান্তেই।

ত্বক ও চুল যত্নে রাখতে আমরা যেসব প্রসাধনী ব্যবহার করি তার অধিকাংশেই থাকে ক্ষতিকর SLES(Sodium Laureth Sulfate), প্যারাবেন, এলকোহল, থ্যালেট, সিলিকন ও নানা ধরনের কেমিক্যাল। এসব কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদান সবসময় ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। কিছুদিন আগেও এ ব্যাপারে খুব একটা সচেতনতার প্রসার না থাকলেও এখন মানুষের জানার পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে এ বিষয়ে সচেতনতাও বেড়েছে।  রূপচর্চার জগতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড অর্গানিক বিউটি কেয়ার। অর্গ্যানিক প্রসাধনী তৈরি করা হয় খাঁটি, ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা সম্পূর্ন বিশুদ্ধ উপায়ে যা সব রকম ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত হওয়ায় সমগ্র বিশ্বেই আজ হারবাল বা ভেষজ উপাদান দিয়ে রূপচর্চার জয়জয়কার।

এছাড়া, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেও হালাল প্রসাধনী ব্যবহারের তাৎপর্য অনেক। প্রায়শই দেখা যায় আমরা কোনো প্রসাধনীর সঠিক উপাদান সম্পর্কে না জেনেই তা ব্যবহার করছি। হালাল কসমেটিক্স মূলত  ইথানল, কোলাজেন, ল্যানোনিন ও ক্ষতিকর জেলাটিন মুক্ত হয় যার ফলে ইসলামিক শরীয়াহ মেনে চলেই আপনি আপনার ত্বক ও চুলের বিশেষ যত্ন নিতে পারবেন।

তারপরও যদি আপনার মনে প্রশ্ন থেকে থাকে যে কেন ব্যবহার করবেন হালাল ও অরগ্যানিক কসমেটিক্স, তবে আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি আরও কিছু উপকারিতা।

নিরাপদ রূপচর্চা

কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারে বেশিরভাগ সময়ে SLES থাকে যা চুলের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এটি  চুলের প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে চুলের নমনীয়তা ও শাইন নষ্ট হয়।এক্ষেত্রে, হালাল  শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারে শূন্য বা নগন্য পরিমানে সালফেট থাকে যা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই চুলের আর্দ্রতা  ধরে রাখে ও চুলকে পরিষ্কার করে কোমলভাবে।

প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ

আমরা ত্বকে যেই উপাদানই ব্যবহার করি না কেন, তা কিন্তু আমাদের ত্বক সম্পূর্র্ণভাবে শোষণ করে ফেলে। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার ত্বক কোনো কড়া কেমিক্যাল শোষণ করুক! অর্র্গানিক ও হালাল পণ্যে এলোভেরা, নিম, স্পিরুলিনা, এসেনশিয়াল ওয়েল, ভিটামিন ই প্রভৃতি বিভিন্ন উপকারী উপাদান থাকে যা ত্বকের যত্নে কাজ করে দারুণভাবে।

এজিং থেকে সুরক্ষা  

রাসায়নিক ক্ষতিকারক প্রভাবে অকালেই আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে । অরগ্যানিক ও হালাল কসমেটিক্স বিভিন্ন এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হয় যা আমাদের ত্বককে রাখে কোমল,নরম ও উজ্জল। কোনো কড়া কেমিক্যাল থাকে না বলে আমাদের ত্বক  থাকে সবচেয়ে আরামে, এজিং এর কোনো ভয় ছাড়াই।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন যত্ন

অরগ্যানিক কসমেটিক্স এ কোন ক্ষতিকর সাইড ইফেক্ট থাকে না। তবে যদি প্রডাক্টের কোনো উপাদানে আপনার এলার্জি থাকে তবে ক্ষতি হতে পারে। চিন্তার কিছু নেই, সেই উপাদানটি নেই এরকম কোনো অরগ্যানিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না। যেমন, আপনার যদি চন্দনে এলার্জি থেকে থাকে তবে যেই প্রডাক্টে চন্দন আছে সেটি এড়িয়ে চলতে হবে।

কসমেটিকস আমরা ব্যবহার করি যত্নের মাধ্যমে নিজেকে আরো সুন্দর করে তোলার জন্য। কিন্তু তা যদি কেমিক্যালের কারনে উল্টো আরো ক্ষতি করে ফেলে তাহলে আর কসমেটিকস ব্যবহারের কোনো মানেই হয় না। অরগ্যানিক ও হালাল কসমেটিকস যেমন নিরাপদ, তেমনি উপকারী। যা প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে ও যা শরীয়াহ এর বাইরে যায় না তা সত্যিকারে উপকারই করবে, তাই নয় কি?  

১০+ দেশি/বিদেশি ব্র্যান্ডের হালাল এবং অরগ্যানিক কসমেটিকসের কালেকশন দেখতে পারেন আমাদের ওয়েবসাইটে – https://www.stylinecollection.com/index.php?route=product/category&path=178

5 Comments

Leave a Reply to Khorgosh Cancel reply