[Corona Virus Lock-down] আনন্দে কাটুক শিশুর সময়

যেকোন দুর্যোগের ছাপ প্রাপ্তবয়স্করা ভুলে গিয়ে আবার শুরু করতে পারলেও শিশুরা সেভাবে পেরে উঠে না। এর প্রভাব তাদের বেড়ে উঠাকে বাধাগ্রস্ত করে। বর্তমানে COVID-১৯ একটি দুর্যোগ বটেই। আপনি, আমি যখন বার বার হাত ধোয়া আর টয়লেট পেপার স্টক করে ব্যস্ত, তখন আমাদের শিশুরা একঘেয়ে অলস সময় পাড় করছে। অভিভাবকদের এখন অতিরিক্ত যত্নবান হতে হবে শিশুর প্রতি, যাতে একঘেয়ে, নিরর্থক অথবা শুধু স্ক্রিন টাইমে যেন তার সময়  না কাটে।  

এখনই কিন্তু উপযুক্ত সময় সুন্দর মুহূর্ত কাটানো শিশুর সাথে যা সময়ের অভাবে করা হয়নি আগে। সহজেই করা যায় এমন কিছুই বেছে নিন, যেমন: বই পড়া, শব্দ ধাঁধা, গল্পের আসর বসানো, লেখা ইত্যাদি। 

সব মা-বাবার মনে রাখতে হবে বই পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিশুর বিকাশের জন্যে। শিশুরা যদি দেখে তাদের বইয়ের শেল্ফটি শুধুমাত্র স্কুলের বইয়ের সাথে আটকে আছে তবে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে বই পড়ার প্রতি। শিশুর বইয়ের শেল্ফে পড়ার বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই যেমন গল্পের বই, ছড়ার বই, ভ্রমণ কাহিনী কিংবা মজায় মজায় গণিত শিক্ষা ইত্যাদির সংগ্রহ রাখুন। মনে রাখবেন, বইপড়া অথবা কিছু শেখানোর ব্যাপারটিকে যেন একঘেয়ে মনে না হয়। শিক্ষা হবে মজায় মজায়, তাহলেই আপনি শিশুর আগ্রহ ধরে রাখতে পারবেন। 

আজকের লেখায় থাকছে কিভাবে আপনার শিশুকে মজায় মজায় বই পড়ানো শেখানো যাবে যা একঘেয়ে সময় পাড় করা অথবা স্ক্রিন টাইম কমাতে সাহায্য করবে।   

১. আপনি যদি আড়াই-তিন বছরের শিশুর জন্যে বইয়ের শেল্ফ তৈরির কথা ভাবছেন তাহলে এমন কিছু বই নির্বাচন করুন যাতে প্রচুর ছবি, মোটা অক্ষরে লেখা এবং রং এর ছড়াছড়ি আছে।  কারণ এতে শিশুরা আকৃষ্ট হয় বই হাতে নিতে। ছড়ার বই গুলি সুরে সুরে পড়ে শুনানোর অভ্যাস করুন, শিশু পরবর্তীতে এই সুরেই ছড়াগুলি মনে রাখবে। 

২. এরপর আপনার শিশু যখন নিজে নিজেই ছড়া বলতে শিখে যাচ্ছে আধো আধো বুলিতে, তার সীমাহীন কৌতূহলের নিবারনের জন্যে তাকে খুব উজ্জ্বল রঙের ছবি আছে এমন বই অথবা অক্ষর শেখার বই দিন। একটা অক্ষর থেকে কিভাবে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ছবিতে রূপান্তর করা সম্ভব তাকে তা শেখান। দেখবেন আপনার শিশু শিখতে কেমন আগ্রহী হয়ে উঠছে ! 

৩. কিছু টাস্কিং দিয়ে ব্যস্ত রাখতে পারেন আপনার দুরন্ত শিশুকে। যেমন, তার পছন্দের বইয়ের উপর কিছু লাইন লেখা অথবা তার কোন পছন্দের চরিত্রকে রংতুলিতে ফুটিয়ে তোলা। 

৪. রাতে ঘুমাবার আগে অথবা খাওয়ার সময় শিশুকে গল্পের বইয়ের কিছু অংশ পরে শুনান। ঘুমানোর জন্যে বিছানায় যাবার আগে মা বাবার সাথে একটি গল্পের বই পড়া অথবা সুরে সুরে ছড়া আবৃতি করা আপনার শিশুর জন্য দুর্দান্ত উইন্ড-ডাউন হিসাবে কাজ করতে পারে। এতে করে মা-বাবার সাথে শিশুর সম্পর্কও আরো দৃঢ় হয়।  

আমরা শিশুদের শেখার ব্যাপারটাকে প্রতিযোগিতার পর্যায়ে নিয়ে যাই, যার ফলে শিশুরা পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। চিরাচরিত স্কুলের পড়ার বাইরে শিশুকে মজাদার সব বই পড়তে দিন এতে করে তার পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে, স্কুলের পড়াশোনায়ও আপনাতেই হয়ে উঠবে মনোযোগি।

Goofi সন্ধান দিচ্ছে এমন কিছু বইয়ের, যা আপনার শিশুর শিক্ষাকে আরো আনন্দদায়ক করে তুলবে। এখন Goofi বই পাওয়া যাচ্ছে Styline প্লাটফর্মে, ওয়েবসাইট ঘুরে পছন্দসই বই কিনে নিতে পারেন ঘরে বসেই। 

Leave a Reply