Secret of Spices

আমাদের প্রতিদিনের খাবার রান্নায় মশলা তো একদম মাস্ট। দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে খাবারের গন্ধ আর স্বাদ দুটোর জন্যেই ভরসা করা হয় বিভিন্ন ধরণের মশলা আর হার্বের উপর। শুধু তাই নয়, অতি প্রাচীনকাল হতেই কিছু মশলা স্বাস্থ্যগত উপকারিতার জন্যেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিনকার ব্যবহৃত এইসব মশলার স্বাস্থ্য গুনাগুন সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি।  আজকের লেখায় তাই চেষ্টা করবো খুব পরিচিত কিছু মশলার উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে।

জিরা:

জিরা পৃথিবীর প্রাচীনতম মসলাগুলির মধ্যে একটি হিসাবে পরিচিত। জিরা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলিতে সমৃদ্ধ, এবং এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিসেপটিক হিসাবেও পরিচিত। এটি আপনার পেটের সমস্যাগুলিরও সমাধান করতে পারে। জিরা বমি বমি ভাব দূর করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। জিরার ভিটামিন সি এর উপস্থিতি প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে সহায়তা করে। এটিতে অনেকগুলি অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। 

জিরাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা রক্ত সল্পতা নিরাময়ে সহায়তা করতে পারে। আপনি কি জানেন এক টেবিল চামচ পুরো জিরাতে 22 মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে ?!

হলুদ:

সাধারণত তরকারি রান্নায় যেসব মশলা ব্যবহার করা হয়, হলুদ তার মধ্যে সবচাইতে কমন। হলুদ একটি শক্তিশালী মশলা যাতে আছে কার্কিউমিন নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও হলুদে আছে, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা কোষের ক্ষতি রোধে সহায়তা করে। কারকুমিন হজমকে সহজতর করে।

 

অনেক প্রাচীনকাল থেকেই হলুদ হিলিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়াও  হলুদে আছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এজেন্ট  যার ফলে হলুদ গাউট এবং অন্যান্য বাতের ব্যথা কমাতে কার্যকরি।

লাল মরিচের গুঁড়ো:

লাল মরিচের গুঁড়োতে ক্যাপসাইসিন নামে একটি যৌগ থাকে যা শরীরের মেটাবোলিসমের হার বাড়ায় এবং ফ্যাট বার্ন করতে সহায়তা করে। লাল মরিচের গুঁড়োতে পটাসিয়ামের উচ্চ উপাদান রক্তনালীগুলিকে প্রশমিত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন সি যা শরীরকে দীর্ঘস্থায়ী রোগের সাথে লড়াই করতে সহায়তা করে।

দারচিনি:

দারচিনি প্রাচীন বিশ্বে ব্যবহৃত প্রথম মশালার মধ্যে একটি, যার সুগন্ধযুক্ত উষ্ণ-মিষ্টি স্বাদ বহু শতাব্দী ধরে আমাদের ইন্দ্রিয়কে আনন্দিত করে আসছে। ডায়াবেটিস কেয়ারের ডিসেম্বর ২০০৩ এর সংখ্যায় প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন ১ গ্রাম দারুচিনি খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার, ট্রাইগ্লিসারাইডস, এলডিএল কোলেস্টেরল এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে মোট কোলেস্টেরল হ্রাস পেয়েছে। দারচিনি রক্তের শর্করার হঠাৎ স্পাইককে নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে এটি ডায়াবেটিসের জন্যে উপকারী।

 

দারুচিনি হজমে দারুন উপকারী। এটিতে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল এজেন্ট। পেট খারাপ অথবা প্রচন্ড ঠান্ডায় দারচিনি চা অনেকটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। ডায়রিয়ার জন্য, দইয়ের সাথে ১/২ চা চামচ দারচিনি মিশিয়ে খেলে আপনার ভাল লাগবে।

লবঙ্গ:

পিছনে ফিরে তাকালে, লবঙ্গ বছরের পর বছর ধরে বমি বমি ভাব, হজম ব্যাধি এবং ঠান্ডার চিকিৎসার জন্য আয়ুর্বেদে একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করেছে। লবঙ্গ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি অন্যতম উৎস। অ্যারোমাথেরাপিতে এটি এন্টিসেপটিক এবং ব্যথা উপশমকারী হিসাবে বিশেষত দাঁত ব্যথা এবং পেটের ব্যথার জন্য ব্যবহৃত হয়। লবঙ্গে আছে ক্যারমিনেটেভ যা হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে গ্যাস গঠনে বাধা দেয়।

এর পরের বার আপনি যখনই দক্ষিণ এশিয়ার তরকারি খাবেন, এর মশালার উপকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। এইসব মশলাগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং অনেকের মধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।